ছবি: মুত্তাসিম বিল্লাহ
মাটিও বিষাক্ত করলেন, কৃষকও অসুস্থ বানাইলেন, নিরাপদ খাবার কেমন পাবেন? কে দিবে?” — এই প্রশ্ন যেন আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য ও সমাজব্যবস্থার চরম বাস্তবতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।
আমরা সবাই চাই নিরাপদ খাদ্য। কিন্তু সেই খাবার আসবে কোথা থেকে, যদি সেই মাটিই হয়ে পড়ে বিষাক্ত? যদি যিনি সেই খাবার উৎপাদন করেন, সেই কৃষকই থাকেন বিষময় রাসায়নিকের মধ্যে, অসুস্থ-নিঃস্ব-অবহেলিত?
বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত ও অতিরিক্ত রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং নানা বিষাক্ত উপকরণ প্রয়োগ করে মাটির প্রাণ শেষ করে দেওয়া হয়েছে। যে মাটি একসময় দিত জীবনের স্পন্দন, এখন সে মাটি যেন বিষবৃক্ষের উৎস। ফলন হয়তো বাড়ে সাময়িকভাবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা ধ্বংস ডেকে আনে – মাটির গুণাগুণ নষ্ট হয়, পরিবেশের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, এবং সবচেয়ে ভয়াবহ— খাবার বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
আর কৃষক? তারাই তো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বিষাক্ত রাসায়নিক ছিটিয়ে দিন পার করেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ছাড়াই কীটনাশক ব্যবহার করেন, দিনশেষে সেই খাবার খান নিজের পরিবারসহ। ফল— তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি, শারীরিক অসুস্থতা, এমনকি মৃত্যুও।
তাহলে প্রশ্ন হলো, নিরাপদ খাবার আসবে কোথা থেকে?
এই দায় আমাদের সবার। শুধুমাত্র কৃষকের নয়, ভোক্তারও। আমরা যদি বাজারে গিয়ে শুধু চকচকে বড় সবজি বা ফলের পেছনে ছুটি, তাহলে কৃষক বাধ্য হন সেই অনুযায়ী বিষাক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে। আমরা যদি জানতে চাই, কোথা থেকে আসলো এই খাবার, কিভাবে উৎপাদিত হলো— তাহলে তৈরি হবে চাহিদা, বাড়বে সচেতনতা।
এখন সময় জাগার-
প্রাকৃতিক চাষাবাদ ও জৈব কৃষিকে উৎসাহ দিতে হবে।
কৃষকদের প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে।
ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়াতে হবে।
নিরাপদ খাবার কোনো বিলাসিতা নয়, এটা অধিকার। আর সেই অধিকার রক্ষায় কৃষককে বাঁচাতে হবে, মাটিকে বাঁচাতে হবে। তবেই আমরা পাবো নিরাপদ খাদ্য, সুস্থ সমাজ।
ছবি: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের দেউলাবাড়ী এলাকা।
