স্টাফ রিপোর্টার :
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে হাজার একর ফসলি জমিতে থৈ থৈ করে পানি। শুধু ফসলি জমি নয়, পানিতে নিমজ্জিত থাকে বাড়িঘরের উঠোন-মেঝে, রাস্তা ও বাজারঘাট। প্রায় তিন দশক ধরে চলা এই জলাবদ্ধতায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে নাকাল পাঁচটি গ্রামের মানুষ।
বর্ষা মৌসুম এলেই পানিবন্দি হয়ে পড়ে জামালপুর সদর উপজেলার হরিপুর, দড়িফতেপুর, মাছিমপুর, বগালী ও মাঝিপাড়া, এই পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ে হাজার একর ফসলি জমি। তিন ফসলি এসব জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে একটি ফসল আবাদ করতে পারে কৃষকরা। ফলে জমি থাকতেও আবাদ করতে না পেরে তাদের কৃষিনির্ভর জীবনে নেমে এসেছে অভাবের কষাঘাত। এমনই অভিমত ব্যক্ত করেন ওই পাঁচ এলাকার লোকজন।
স্থানীয়রা জানান, এই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এতে প্রায় হাজার একর ফসলি জমি প্রায় ৩০ বছর ধরে অনাবাদী। বছরের অধিকাংশ সময় পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে এই পাঁচটি গ্রামের মানুষজন। বর্ষাকালে ঘরে পানি ঢুকে, বাড়ে সাপ, বিচ্ছু ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি। এমনকি মাছিমপুর এলাকায় রেল চলাচলেও তৈরি হয় চরম ঝুঁকি।
পাঁচটি গ্রামে প্রায় ৩০ বছরের এই করুণ চিত্র পাল্টে দিতে এবং মানুষজনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ লাঘবে মাঠে নেমেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন মিলন ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ্ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি ব্রিজ এবং রেললাইনের একটি ব্রিজের পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই এই দুর্ভোগের শুরু। বহুবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ওই দুই নেতার হস্তক্ষেপে শুরু হয়েছে ড্রেন পুনরুদ্ধার ও পানি নিষ্কাশনের কাজ।
২৬ জুলাই সকালে ভেকু মেশিনে বগালী গ্রামে বন্ধ ড্রেন পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় এই কাজে তদারকি করেন ওই দুই নেতা।
তারা বলেন, ড্রেন দুটি সচল হলে পাঁচটি গ্রামের জলাবদ্ধতা যেমন নিরসন হবে, তেমনি পুনরায় চাষের উপযোগী হবে কৃষিজমি। এই অঞ্চলের কৃষিনির্ভর মানুষেরা আবার সারাবছর চাষাবাদ করে দারিদ্রতা ঘুচিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।
তারা আরও বলেন, সদর আসনের মাননীয় এমপি আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনের দিকনির্দেশনায় শুরু হয়েছে এই কাজটি। পানি নিষ্কাশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কাজে তদারকি চলমান থাকবে। এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীম হোসেন মাস্টার, শরিফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান হামিদী, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুল, শরিফপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি আব্দুল জলিল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান সোহেল, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
