॥ সাইদ পারভেজ তুহিন ॥
খাদ্য মানুষের বেঁচে থাকার অন্যতম মৌলিক প্রয়োজন। নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাবার পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। অথচ অধিক মুনাফার লোভে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল, ওজনে কম দেওয়া, নি¤œমানের পণ্য বিক্রি এবং নানা অনিয়মের আশ্রয় নিচ্ছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের ওপর।
জামালপুরেও বাজার, দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের ব্যবসায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।বিশেষ করে দুধ, মিষ্টি, বেকারি পণ্য, ভোজ্যতেল, মসলা, ফলমূল, মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি। কোথাও পণ্যের মেয়াদ, কোথাও সংরক্ষণব্যবস্থা, আবার কোথাও মূল্য ও ওজন নিয়ে ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছেÑএসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে নজর দিতে হবে।
ভেজাল খাবারের ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে সবসময় বোঝা যায় না। দীর্ঘদিন অনিরাপদ খাদ্য গ্রহণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের জন্য এর ঝুঁকি আরও বেশি। তাই ভেজালকে নিছক ব্যবসায়িক অনিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি গুরুতর সামাজিক অপরাধ।
তবে শুধু প্রশাসনের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। ব্যবসায়ীদের মধ্যেও নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে। একজন ব্যবসায়ী লাভ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই লাভ যদি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের ক্ষতির বিনিময়ে হয়, তাহলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে। পণ্যের মেয়াদ, মূল্য, ওজন, মান ও প্যাকেটের তথ্য যাচাই করে কেনাকাটা করা, সন্দেহজনক পণ্য এড়িয়ে চলা এবং প্রতারণার শিকার হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো জরুরি। নীরবতা অসাধু ব্যবসায়ীদের আরও উৎসাহিত করে।
জামালপুরের বাজারব্যবস্থাকে নিরাপদ ও ভোক্তাবান্ধব করতে নিয়মিত বাজার তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ভেজালবিরোধী অভিযান এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে অভিযান যেন শুধু বিশেষ দিবস বা সাময়িক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। নিয়মিত ও দৃশ্যমান নজরদারিই পারে অনিয়ম কমাতে।
একই সঙ্গে শুধু জরিমানা নয়, গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে যারা নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, তাদের উৎসাহিত করাও জরুরি। এতে সৎ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সুযোগ পাবেন এবং বাজারে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবেÑএকজন অসাধু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত মুনাফা হয়তো তার ব্যক্তিগত লাভ বাড়ায়, কিন্তু তার ভেজাল পণ্য অসংখ্য মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ব্যবসা হোক, মুনাফা হোকÑকিন্তু মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যকে ঝুঁকিতে ফেলে নয়।
জামালপুরের প্রতিটি বাজার হোক নিরাপদ, প্রতিটি দোকান হোক আস্থার জায়গা এবং প্রতিটি ভোক্তা পাক তার ন্যায্য অধিকার। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাÑতিন পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।
